সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: অস্ট্রেলিয়ার পাঞ্চবোলে ‘এ লেগাসি অব ফেইথ’ অনুষ্ঠানে যার প্রধান বক্তা থাকার কথা ছিল, সেই শায়খ আহমাদুল্লাহ এখন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়। ৫ এপ্রিল (রোববার) সিডনি থেকে আসা খবরে জানা গেছে, ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর ভিসা বাতিল করেছে আলবানিজ সরকার। এর আগে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল, যা এখন অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক বড় ধাক্কা।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট স্পষ্ট করেছেন যে, ইহুদিবিদ্বেষ বা ইসলামফোবিয়া ছড়ায়—এমন কারও প্রতি তাঁদের কোনো ‘জিরো টলারেন্স’ নেই।
ঐতিহাসিক তুলনা: এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৭০-এর দশকের সেই পশ্চিমা দম্ভকে, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের ‘মূল্যবোধ’ (Values) বজায় রাখতে গিয়ে দক্ষিণ এশীয় বা মুসলিম বিশ্বের অনেক কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করত। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, শায়খ আহমাদুল্লাহর ‘দুই মাছের লড়াইয়ের পেছনেও ইহুদিদের হাত’—সংক্রান্ত পুরনো ভিডিওটি পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর আইনি কাঠামোর (Antisemitism Acts) মধ্যে পড়ে গেছে।
মাওলানা আজহারী তাঁর আধুনিক বাচনভঙ্গি ও তারুণ্যের কাছে জনপ্রিয়তার জন্য পরিচিত, অন্যদিকে শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানবিক কর্মকাণ্ড ও গবেষণাধর্মী আলোচনার জন্য সমাদৃত।
ব্যক্তিত্বের তুলনা: শায়খ আহমাদুল্লাহর ইমেজ মূলত একজন ‘মধ্যপন্থী’ ও ‘মানবিক’ স্কলার হিসেবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর আগের কিছু বক্তব্যকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি অনেকটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সেই সময়ের মতো, যখন কোনো উদারপন্থী নেতাকেও একতরফাভাবে ‘সংকীর্ণ’ তকমা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হতো। পশ্চিমা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় আজহারী ও আহমাদুল্লাহকে একই দাঁড়িপাল্লায় মাপা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দলীয় ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেলিয়া ক্যাশ সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, এদের শুরুতেই প্রবেশাধিকার দেওয়া উচিত ছিল না।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ চলছে (যেমনটি আমরা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর জোটের ক্ষেত্রে দেখছি), তখন পশ্চিমা দেশগুলো ইহুদিবিদ্বেষী যেকোনো বক্তব্যের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এই ভিসা বাতিল কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা যে—পশ্চিমা মিত্ররা বর্তমানে ইসরায়েলি সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে কোনো কথা সহ্য করবে না।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই ট্যুর বাতিলের ফলে ক্যানবেরা, অ্যাডিলেড এবং পার্থের অনুষ্ঠানগুলোও বাতিল হয়েছে।
সামাজিক প্রভাব: বাংলাদেশে বন্যার সময় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন যেভাবে এক পা এক পা করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা আমাদের গর্বের বিষয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন ধর্মীয় নেতার ‘ইমেজ’ বা ভাবমূর্তি তাঁর সংগঠনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এই ভিসা জটিলতা ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত ধর্মীয় মাহফিলগুলোর ওপর কঠোর নজরদারির পথ তৈরি করতে পারে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল হওয়া আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক বিশ্ব এখন আর কেবল বর্তমানের বক্তব্য শোনে না, তারা ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ বা অতীতের প্রতিটি কথা খতিয়ে দেখে। আজ ৬ এপ্রিলের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, যেখানে ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিচ্ছেন, সেখানে মুসলিম স্কলারদের প্রতিটি শব্দ চয়ন অনেক বেশি কৌশলী হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, আজহারী বা আহমাদুল্লাহর মতো মেধাবী বক্তারা বিশ্বমঞ্চে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ হারাবেন।
| বক্তার নাম | অভিযোগের ধরণ | বর্তমান অবস্থা |
| ড. মিজানুর রহমান আজহারী | ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ ও বিতর্কিত বক্তব্য। | অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। |
| শায়খ আহমাদুল্লাহ | ইহুদিবিদ্বেষ ও যড়ষন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy Theory)। | ভিসা বাতিল ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার তদন্তাধীন। |
| অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান | ‘মাইগ্রেশন অ্যাক্ট’ ও পশ্চিমা মূল্যবোধ রক্ষা। | জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |